উসূলে হাদীস কী এবং কেন?

 


উসূলুল হাদীসের পারিভাষিক সংজ্ঞা হলঃ
هوعلم يبحث فيه عن صحة الحديث وضعفه من حيث صفات الرجال وصيغ الرجال.
অর্থ উসূলুল হাদীস এমন একটি জ্ঞান বা শাস্ত্রকে বলা হয়, যে শাস্ত্রে হাদীসের বিশুদ্ধতা, দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাবী বা বর্ণনাকারীদের গুণাবলী ও বচন এর ভিত্তিতে।
উসূলুল হাদীসের আলোচ্য বিষয়ঃ
السند والمتن – والسند هو اسماء الرّواة والمتن هو الفاظ الحديث
সনদ ও মতন অর্থাৎ, সূত্র ও বক্তব্য। যেমন,
حدّ ثنا مكّى بن ابراهيم قال حدّ ثنا يزيد بن ابى عبيد عن سلمة قال سمعت النبىّ صلّى الله عليه وسلم – يقول – من يقل علّى مالم اقل فليتبوّ أ مقعده من النّار- متوا تر -
♦ ইমাম বুখারী (রাহিঃ) বলেন, আমার নিকট মাক্কি বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন,
♦ মাক্কি বিন ইব্রাহিম বলেন, আমার নিকট আবু উবাইদ এ বর্ণনা করেছেন,
♦ আবু উবাইদ বলেন, আমি সালামা (রাঃ) হতে,
♦ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি নবী করিম (সাঃ) থেকে শুনেছি।
♥ রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি যা বলিনি, কেউ যদি তা আমি বলেছি বলবে। তা হলে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিলো। (বুখারী ১০৯, হাদিসটি মুতাওয়াতির)
এখানে, ইমাম বুখারী থেকে সালামা পর্যন্ত অংশটুকু হাদীসের সানাদ, আর বাকী অংশ হাদীসের মাতান (বক্তব্য)।
উসূলুল হাদীসের غرض বা উদ্দেশ্যঃ
معرفة المقبول من الحديث والمردود منه اى تميز الصحيح من غيره
অর্থাৎ, মোহাম্মাদ (সাঃ) এর হাদীসকে দ্বাঈফ (দূর্বল) ও মাওদ্বু (জাল) হাদীস থেকে পৃথক করা।
উসূলুল হাদীসের উৎপত্তিঃ
সূরা আল হুজুরাত (الحجرات), আয়াত: ৬
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ جَآءَکُمْ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوْۤا اَنْ تُصِیْبُوْا قَوْمًۢا بِجَہَالَۃٍ فَتُصْبِحُوْا عَلٰی مَا فَعَلْتُمْ نٰدِمِیْنَ
অর্থঃ মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।
উক্ত আয়াত থেকেই উসূলুল হাদীসের উৎপত্তি।
▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬


উসূলে হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও সাহাবী (রাঃ) এর পরবর্তী যুগে অর্থাৎ, হিজরীর দ্বিতীয় শতকে হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নামে জনরব উঠেছিল। অর্থাৎ, موضوع বা জাল হাদীস বের হয়েছিল। এ জনরব বা জাল হাদীসকে প্রতিহত বা অবরোধ করার জন্য উসুলে হাদীস বা হাদীসের আইন বা হাদীস তত্ত্ব বিজ্ঞান বা হাদীসের মূলনীতি রচনা ও বিন্যাস করা হয়। এ বিষয়টির প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইমাম বুখারী (রাহিঃ) এর শিক্ষক এবং শিক্ষকের শিক্ষক খবর নকলকারীদের গুণাগুণ তদন্ত বিভাগের প্রধান ও তাবেয়ী শো’বা ইবনে হাজ্জাজ (রাহিঃ) মৃত্যু ১৬০ হিজরী। এর পর যারা এ বিষয়ের উপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। এখানে তাদের নাম প্রদান করা হলঃ-
১ । ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্তান (রাহিঃ) মৃত্যু ১৯৮ হিজরী
২ । ইয়াইয়া ইবনে মাঈন (রাহিঃ), মৃত্যু ২৩৩ হিজরী
৩ । আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিঃ), মৃত্যু ২৪১ হিজরী
৪ । হাকিম আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরী (রাহিঃ), মৃত্যু ৪০৫ হিজরী
৫ । আবু নুআঈম আসবাহানী (রাহিঃ), মৃত্যু ৪৩০ হিজরী
৬ । খতিব আবুবকর বাগদাদী (রাহিঃ), মৃত্যু ৪৬৩ হিজরী
৭ । কাজী ইয়াজ (রাহিঃ), মৃত্যু ৫৪৪ হিজরী
৮ । হাফেজ আবু ওমর ওসমান ইবনে ছালাহ (রাহিঃ), মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী
৯ । ইমাম নববী (রাহিঃ), মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী
১০। হাফেজ আহমদ বিন আলী ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিঃ), মৃত্যু ৮৫২ হিজরী
▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬


Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel