যঈফ হাদীস কেন বর্জনীয়?

 


আল্লাহ (سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى) বলেন,
يٰٓاَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ اِن جَآءَكُمْ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَيَّنُوٓا۟ اَن تُصِيبُوا۟ قَوْمًۢا بِجَهٰلَةٍ فَتُصْبِحُوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نٰدِمِينَ
অর্থঃ মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।
☞ সূরা আল হুজুরাত (الحجرات), আয়াত: ৬
-------------------------------------------
যঈফ হাদীস সম্পর্কে ঈমামদের মতামতঃ-
-------------------------------------------
➤(১) ঈমাম ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রাহি)-এর মন্তব্য:
পূর্ববর্তী মুহাদ্দিছগণের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (১৫৮-২৩৩ হিঃ)
সর্বক্ষেত্রেই যঈফ হাদীছ বর্জনের কথা বলেছেন। তা আহকামগত হােক আর ফযীলতগত হােক। ইবনু সাইয়িদিন নাস (মৃঃ ৭৩৪হিঃ) বলেন,‘আহকামসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সমানভাবে যঈফ হাদীছ বর্জন করেছেন বলে যাদের উল্লেখ করা হয় তাদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন একজন।
-------------------------------------------
➤ (২) ঈমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহি)-এর মূলনীতি:
ঈমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ) যঈফ হাদীছকে যে সম্পূর্ণরূপেই প্রত্যাখ্যান
করেছেন তা তাঁর ছহীহ বুখারীর সংকলন, রাবীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোরতা
অবলম্বন এবং কোন প্রকার যঈফ হাদীছকে প্রশ্রয় না দেওয়া থেকেই প্রকৃষ্টভাবে
প্রমাণিত হয়। সর্বক্ষেত্রে যঈফ হাদীছ বর্জনের পক্ষে আলােচনা করতে গিয়ে শায়খ
জামালুদ্দীন কাসেমী (রাহি) ঈমাম বুখারী ও মুসলিম সম্পর্কে বলেন, ‘স্পষ্ট যে, ঈমাম বুখারী ও মুসলিমের রীতিও তাই। ঈমাম বুখারী ছহীহ বুখারীতে যে শর্ত অবলম্বন করেছেন এবং ঈমাম মুসলিম যঈফ রাবীদের উপর যে বড় দোষ
আরােপ করেছেন যা আমরা পূর্বে আলােচনা করেছি- তাতে সেটাই প্রমাণিত হয়।
তাছাড়া তাদের ছহীহ গ্রন্থদ্বয়ে কোন প্রকার যঈফ হাদীছ বর্ণনা না করাও তার প্রমাণ।
-------------------------------------------
➤ (৩) ঈমাম মুসলিম (রাহি)-এর দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য:
যঈফ হাদীছ বর্জন সংক্রান্ত ঈমাম মুসলিম (২০৪-২৬১)-এর বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন। তিনি
তাঁর ছহীহ মুসলিমের ভূমিকাতেই তা আলােচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রমাণে
হাদীছ উল্লেখ করেছেন এবং ছাহাবী, তাবেঈ ও মুহাদ্দিছগণের মতামত পেশ
করেছেন। যেমন একটি শিরােনাম দিয়েছেন,
ন্যায়পরায়ণ রাবীদের থেকে হাদীছ বর্ণনা করা, মিথুকদের প্রত্যাখ্যান করা এবং
রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর মিথ্যারােপ করা থেকে ভীতি
প্রদর্শন করা ওয়াজিব। অতঃপর তিনি বলেন,
‘তুমি (ছাত্র) জেনে রাখ, আল্লাহ তা'আলা তােমাকে তাওফীক দান করুন! যারা
ছহীহ ও ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা সমূহ এবং ন্যায়পূর্ণ ও অভিযুক্তদের সম্পর্কে বুঝে তাদের
প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব হল তারা যেন সেই বর্ণনাগুলাে থেকে শুধু তাই বর্ণনা
করে যার উৎসের সত্যতা ও তার বর্ণনাকারীদের শ্লীলতা সম্পর্কে জানবে। সেই
সাথে ঐগুলাে থেকে সাবধান থাকবে যেগুলাে ত্রুটিযুক্ত ও অস্বীকারকারী গোড়া
বিদ'আতীদের থেকে এসেছে।
📙 সহীহ মুসলিম (মুক্বাদ্দামাহ)
-------------------------------------------
➤ (৪) ঈমাম ইবনু হিব্বান (রাহি)-এর মন্তব্য:
প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ঈমাম আবু হাতেম ইবনু হিব্বান (মৃঃ ৩৫৪ হিঃ) জাল ও যঈফ
হাদীছের বিরুদ্ধে ছিলেন খড়গহস্ত । তিনি এক্ষেত্রে যে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন
তাতে বুঝা যায় যঈফ হাদীছ কোন ক্ষেত্রেই আমলযােগ্য নয়। তিনি পরিষ্কারভাবে
বলেন,
‘যঈফ হাদীছ বর্ণনা করুক বা না করুক হুকুমের ক্ষেত্রে উভয়টিই সমান। অর্থাৎ যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যায় না। নিশ্চয়ই এর অস্তিত্ব থাকা না থাকার মতই।
‘কোন ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট, সে যা শুনে তাই বর্ণনা করে’
উক্ত হাদীছ উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘যে ব্যক্তি ছহীহ ও ত্রুটিপূর্ণ হাদীছের যা শুনে তাই বর্ণনা করে, তার সম্পর্কে আমি
আশঙ্কা করি যে, সে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর মিথ্যারােপকারী সংক্রান্ত বাক্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি সে তা জেনে বর্ণনা করে।
কারণ হাদীছ বর্ণনাকারী, দুর্বল রাবী এবং পরিত্যক্ত ব্যক্তিদের ন্যায়পরায়ণতা পার্থক্য বা যাচাই করা বরকতময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণিত হুকুম দ্বারাই প্রমাণিত।
📙 ইবনু হিব্বান, আল-মাজরূহীন, মুক্বাদ্দামাহ, পৃঃ ৬; হুকমুল আমাল বিল হাদীছিয যঈফ, পৃঃ ২৪.


Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel