মুরসাল রেওয়ায়েত "যঈফ" এবং দলীলের অনুপযুক্ত
কারণঃ-
(১) ইমাম মুসলিম (রাহিঃ) বলেছেন,
وَالْمُرْسَلُ مِنَ الرِّوَايَاتِ فِي أَصْلِ قَوْلِنَا، وَقَوْلِ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْأَخْبَارِ لَيْسَ بِحُجَّةٍ ‘
আমাদের মৌলিক কথা এবং হাদীছ বিশারদগণের উক্তি হ’ল, মুরসাল বর্ণনা দলীল নয়’।[মুক্বাদ্দামাহ মুসলিম ১/২৯।]
(২) ইমাম তিরমিযী (রাহি) বলেছেন
والْحَدِيث إِذا كَانَ مُرْسلا فَإِنَّهُ لَا يَصح عِنْد أَكثر أهل الحَدِيث قد ضعفه غير وَاحِد مِنْهُم
‘আর হাদীছ যখন মুরসাল হবে তখন অধিকাংশ মুহাদ্দিছের মতে তা (তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা) শুদ্ধ হবে না। নিশ্চয়ই মুরসাল বর্ণনাকে একাধিক মুহাদ্দিছ যঈফ বলেছেন’।[আল-ইলালুছ ছগীর, পৃঃ ৭৫৩]
(৩) হাফেয ইরাক্বী (রাহি) লিখেছেন,
وَرَدَّهُ جَمَاهِرُ النُّقَّادِ... لِلجَهْلِ بِالسَّاقِطِ في الإسْنَادِ
‘জমহূর মুহাদ্দিছগণ একে (মুরসাল বর্ণনাকে) বাতিল বলেছেন।... সনদের মধ্যে রাবীর পতিত হওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত থাকার কারণে।[ফাৎহুল মুগীছ, ক্রমিক নং ১২৩] অর্থাৎ মুরসাল বর্ণনাতে কোন্ রাবী বাদ পড়ে গিয়েছেন তা অজানা থাকার কারণে একে যঈফ হিসাবে গণ্য করা হয়।
(৪) যয়নুদ্দীন আল-ইরাক্বী (রাহি) বলেন,
وما ذكرناه من سقوط إلاحتجاج بالمرسل والحكم بضعفه هو المذهب الذي استقر عليه آراء جماهير حفاظ الحديث ونقاد إلاثر ‘
মুরসাল বর্ণনা দ্বারা দলীল পেশ করার বিষয়টি বর্জিত হওয়া এবং তার যঈফ হওয়ার হুকুম সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি, এ ব্যাপারে জমহূর হাদীছের হাফেয এবং নাক্কাদুল আছারগণ (হাদীছের সমালোচক মুহাদ্দিছগণ) স্বীকৃতি দিয়েছেন’।[আত-তাক্বঈদু ওয়াল ঈযাহ, পৃঃ ৭৩]
(৫) ইমাম নববী (রহঃ) লিখেছেন,
ثُمَّ الْمُرْسَلُ حَدِيْثٌ ضَعِيْفٌ عِنْدَ جَمَاهِيرِ الْمُحَدِّثِينَ وَالشَّافِعِيِّ وَكَثِيْرٍ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَأَصْحَابِ الْأُصُولِ
‘অতঃপর মুরসাল হাদীছ অধিকাংশ মুহাদ্দিছ, শাফেঈ, অধিকাংশ ফক্বীহ ও আছহাবুল উছূলদের নিকটে যঈফ’।[তাদরীবুর রাবী শরহে তাক্বরীবুন নববী ১/২২২।]
(৬) ইমাম আবূদাঊদ (রাহি) লিখেছেন
فَإِذا لم يكن مُسْند غير الْمَرَاسِيل وَلم يُوجد الْمسند فالمرسل يحْتَج بِهِ وَلَيْسَ هُوَ مثل الْمُتَّصِل فِي الْقُوَّة
‘আর যখন মুরসাল ব্যতীত কোন মুসনাদ বর্ণনা থাকবে না এবং কোন মুসনাদ পাওয়া না যায় তখন মুরসাল দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে। আর এটি মুত্তাছিল-এর ন্যায় শক্তিশালী নয়।[রিসালাতু আবী দাঊদ ইলা আহলি মাক্কাহ, পৃঃ ৩৫]
▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬
(নোটঃ) যে হাদীছ কোন তাবেঈ মধ্যবর্তী রাবীর নাম উল্লেখ না করে সরাসরি রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তাকে ‘মুরসাল’ হাদীছ বলে। ‘মুরসাল’ হাদীছ যঈফ হাদীছের শ্রেণীভূক্ত। এ জন্য জমহূর মুহাদ্দিছীনের নিকটে মুরসাল হাদীছ সাধারণভাবে দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।[তাদরীবুর রাবী ১/১৯৮]